পোস্টগুলি

জাতবর্ণের হিন্দুধর্ম

জাতবর্ণের হিন্দুধর্ম  সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস  (ড. আম্বেদকরের লেখা ১০ টি প্রবন্ধ – ১) প্রাচীন ভারতের ইতিহাস প্রসঙ্গে  ২) প্রাচীন শাসনতন্ত্র : আর্য সমাজের সামাজিক স্থিতি  ৩) নিমজ্জমান পুরােহিত সম্প্রদায় ৪) সংস্কারক ও তাদের নিয়তি  ৫) ব্রাহ্মণ্যবাদী সাহিত্য  ৬) ব্রাহ্মণ্যবাদের বিজয়ােৎসব : রাজহত্যা না প্রতিবিপ্লবের জন্ম  ৭) গৃহস্থের পালনীয় নীতিসমূহ : মনুস্মৃতি বা প্রতিবিপ্লবের বাণী  ৮) ভাগবদ্ গীতা বিষয়ে প্রতিবিপ্লবের দার্শনিক প্রতিপাদন ( শ্রীকৃষ্ণ ও তার গীতা)  ৯) ভারতে বর্ণ ব্যবস্থা – গঠন , উৎপত্তি এবং বিকাশ  ১০) বর্ণ ব্যবস্থার নিলয় এবং দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ঋত - এই প্রবন্ধগুলির উপর ভিত্তি করে আমি এই লেখাটি তৈরি করেছি । ড. আম্বেদকরের এই প্রবন্ধগুলি ভারত সরকারের কল্যাণমন্ত্রক দ্বারা প্রকাশিত আম্বেদকর রচনাবলীতে ছাপা হয়েছে) কয়েকটি কথা  কয়েকমাস আগে ফেসবুকে আমি একটা পোস্ট লিখেছিলাম । হেডিংটা ছিল মােটামুটি এইরকম – ‘ "হিন্দুধর্ম একটি নিকৃষ্ট ধর্ম , কারণ তা জাত - বর্ণের উপর প্রতিষ্ঠিত" । স্বাভাবিকভাবেই অনেক বন্ধু আমার এই কথা ও মত...

ভারতবর্ষে শিক্ষায় সংরক্ষণের গোড়ার কথা

ভারতবর্ষে শিক্ষায় সংরক্ষণের গড়ার কথা ব্রিটিশ ভারতের ইংরেজ সরকার সর্বপ্রথম ১৮১৩ সালে ভারতীয়দের শিক্ষিত করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট একটি আইন তৈরি করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ সরকারকে নির্দেশ দেয়, " ভারতের উদ্বৃত্ত আয়ের মধ্য থেকে প্রতি বছর ন্যূনতম এক লক্ষ টাকা আলাদা করে রাখতে হবে এবং সেই টাকা ভারতের মধ্যকার দক্ষ নেটিভদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি ও শিক্ষার উন্নতি এবং তাঁদের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সূচনা ও প্রসার ঘটাতে ব্যয় করতে হবে " (আম্বেদকর রচনাবলী, ইংরেজি, খন্ড ২, পৃষ্টা ৪০৯, মহারাষ্ট্র সরকার)।  তখন অবিভক্ত বিশাল ভারতবর্ষ, লোকসংখ্যা অসংখ্য। এই বিপুল সংখ্যক মানুষদের মধ্যকার বেশিরভাগ অংশকে যে বরাদ্দকৃত এক লক্ষ টাকায় শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়, তা সাধারণ বুদ্ধিতে বোঝা যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরকারও তা বুঝতে পারে। তাই কম খরচে বেশি ফললাভের জন্য কোন  ব্যবস্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু হয়। নানা ধরণের খোঁজ খবর নেওয়া হয়, অভিজ্ঞতার বিনিময় ও সমীক্ষার কাজ চলে এবং  পদক্ষেপ গৃহীত হয়। কিন্তু  ড.আম্বেদকরের মতে নেটিভ ভারতীয়দের শিক্ষিত করার জন্য এই যে আই...

কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়

কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়  বিদ্যালয়ের সূচনা ও ক্রমবিকাশ (একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, তাহলো--- এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ যখন শুরু হয়, তখন নমো অধ্যুষিত এই বিস্তীর্ন এলাকার মানুষের মধ্যে কোন স্বাক্ষর ব্যক্তি ছিলেন না বললেই চলে। হয়তো লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে ১০/২০ জন মানুষ ছিলেন, যারা শুধু নিজের নামটাই লিখতে পারেন। আর এই এলাকার মানুষের মধ্যে আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিও ছিলেন না, যিনি প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রয়োজনে কিছুটা আর্থিক ভার বহন করতে পারেন। অজপাড়াগাঁয়ের এইসব মানুষেরা সমবেতভাবে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন)  ১৯১৮ সালে মশিয়াহাটী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর , অঞ্চলের শিশু - কিশাের ছাত্ররা বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করে । সকালবেলায় চান করে , মাথায় চিরুনি দিয়ে , পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জামা - প্যান্ট পরে দল বেঁধে স্কুলের দিকে যাত্রা--- এলাকায় এই এক নতুন দৃশ্যের সূচনা হয় ১৯১৮ সাল থেকে । এই নতুন সূর্যের আলােকরশ্মি , গােটা সমাজকে রঞ্জিত করে । বাড়ির শিশু - কিশাের মেয়েরাও এই সুন্দর জীবনের আহ্বান শুনতে পায় এবং বিদ্যাশিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ের টান অনুভব করে । তারাও স্কুলে যেতে চায় ।...