পোস্টগুলি

গোর্খাল্যান্ড : দুটি কথা

আমি যদি বলি বৃটিশ  ভালো ছিল না, ফেসবুকে বন্ধুরা বলছেন, তুমি কি ভালো করতে পারতে? যদি বলি এই কারণে নেহেরু, অটল, কাশীরাম ভুল। --- তার জবাব মিলবে, তুমি কি করেছ? এবং এটাই নাকি আলোচনা! বু...

কাঁশিরাম কে?

কাঁশিরাম কে? ---একটা পার্টির একজন নেতা ছাড়া আর কিছু? এই পরিচয়ের বাইরে তাঁর আর কী বিশেষত্ব আছে? আছে কোনো নুতন কথা , দু লাইন লেখা? আছে কোনো অবদান --- যা দেশের মানুষ বা কোনো অংশের মানুষ উপভোগ করেন? তাঁকে তাঁর পার্টির লোক মানতে পারে, তাঁকে যা কিছু ভাবতে পারে কিন্তু অন্যের কাছে কী বাধ্যবাধকতা আছে! কাঁশিরামের ভক্তরা অন্যদের কাছে কেন কাঁশিরামের প্রতি আনুগত্য দাবি করে? এটা কি পাগলামি নয়?

মায়াবতী-কাঁশিরাম ও বিক্ষুব্ধ বি এস পি

পশ্চিমবঙ্গের কিছু বিক্ষুব্ধ-বসে পড়া বি এস পি-জন বলছেন -- কাশিরাম ভালো, কিন্তু মায়াবতী খারাপ। কিন্তু এটাতো মিথ্যা নয় যে, মায়াবতী-মনোজ কাশিরামের মানস পুত্রী-পুত্র। দুই প্রদেশেই অনেক যোগ্য লোককে পাত্তা না দিয়ে তিনি তাদের পার্টির লোকের ঘাড়ে চাপান। কেন এটা তিনি করেন, সেটা বহুজন জানেন, আমি সেসব কিছু বলতে চাই না। তবে এটা নিশ্চিত যে, তিনি একাজ পার্টি বা সমাজের স্বার্থে করেন নি, করেছেন অন্য কারণে। এখন যারা মায়াবতী কে খারাপ বলছেন, তারা অন্ততঃ ১০ বছর মায়াবতীর দরজায় ধর্ণা দিয়েছেন রাজ্যের দায়িত্ব পাবার জন্য। মনোজকে সরিয়ে এখনকার বিক্ষুব্ধদের দায়িত্ব দিলে মায়াবতী ভালো হয়ে যেতেন। এমনকি এখনো তা হতে পারে। আসলে ওরা নীতি নৈতিকতার ধার ধারেন না, বোঝেনও না। ওরা ক্ষমতা চান, না পেয়ে উদ্ভট কথা বলছেন যে, কাশিরাম ভালো, মায়াবতী খারাপ। আসলে গোটাটাই নষ্ট।

কাঁশিরামের আন্দোলন

কাঁশিরামের স্লোগান --- তিলক, তরাজু আউর তলোয়ার, তিনোকো মারো জুতা চার। স্লোগানটি আম্বেদকরের সাম্য, শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব-এর স্লোগানের বিপরীত। এ স্লোগান,আর গো রক্ষক, বজরঙ্গিরা হলেন একই মুদ্রার এ পীঠ এবং ও পীঠ,  কাঁশিরামের হাতি হলো গণেশ। পার্টির নেতৃত্ব বন্ধক দেওয়া হলো বামুনের কাছে, ও বি সি কে করা হলো প্রধান শত্রু --- এসব আর যাই হোক বহুজন আন্দোলন নয়।

ড. আম্বেদকরের কিছু মৌলিক নির্দেশ

আমার মনে হয়েছে --- আম্বেদকর সাম্য, সৌভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং সেই কাজ করার জন্য বলেছেন। তার জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর জোর দিয়েছেন। উপায় হিসাবে Educate, Agitate, Organise করার কথা বলেছেন। শুধু বলেন নি, তিনি শিক্ষিত করার জন্য প্রচুর লিখেছেন, মুকনায়ক ও বহিষ্কৃত ভারত পত্রিকা প্রকাশ করেছেন, শহরে হোস্টেল খুলেছেন, রাজনীতি শিক্ষাদানের স্কুল করেছেন, সাধারণ কলেজ গড়েছেন।শিক্ষার জন্য অনুকূল আইন, নীতি, নিয়ম গড়ার সংগ্রাম করেছেন ও সুযোগ পেলেই আইন- নীতি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। আইন তৈরির উপর জোর দিয়েছেন। তিনি সামাজিক সংগঠন গড়েছেন, কৃষক ও শ্রমিক সংগঠন গড়েছেন, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন করেছেন এবং ধর্মীও-সামাজিক আন্দোলন করেছেন, কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন করেছেন, রাজনৌতিক আন্দোলন করেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তার কর্মীরা মার খেয়েছেন, এমনকি শহীদ হয়েছেন। আম্বেদকর নির্যাতিত/দলিত মানুষের সাথে মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলেছেন। এই ঐক্যকে ভিত্তি করে ও তাদের নেতৃত্বে অন্যান্য গণতান্ত্রিক মানুষকে সাথে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গড়ার কথা বলেছেন। তিনি সবচেয়ে বড় বিপদ বলে উল্লেখ করে...

বাদুড়িয়া নিয়ে ফেসবুক পোস্ট ও তার পরের ঘটনা

একটা শব্দের খুব চল দেখছি -- মৌলবাদ। এটা ভাল বুঝিনা স্বীকার করে নিয়েই কয়েকটি কথা। একজনকে চিনি, তিনি ১৯৭৭ সালের পরের সি পি এম, ২০১১ পর্যন্ত। অন্য একজন বি এস পি, এখন বিক্ষুব্ধ-বস...

নমোরা কি ধরণের হিন্দু?

১৮৭১/৭২ সালে সম্মানিত হিন্দুর মর্যাদা পেতে চণ্ডালদের সাধারণ ধর্মঘট ইতিহাস খ্যাত। কিন্তু হিন্দু হিসাবে মান্যতা তাঁরা পান নি। তাঁরা অস্পৃশ্য চাঁড়াল হিসাবেই গণ্য হতে থাকেন। হরিচাঁদের জন্ম ১৮১২ সালে। তিনি বেদবিধি মানেন নি এবং বিশেষ করে চণ্ডালদের  হিন্দুশাস্ত্র মানতে নিষেধ করেছেন। এতে বোঝা যায় --- সমাজ তাদের হিন্দু হিসাবে স্বীকার না করলেও তারা নিজেদের হিন্দু মনে করতেন এবং হিন্দুশাস্ত্র মানতেন। ১৯০০ সাল নাগাদ বা একটু আগে গুরুচাঁদ ঠাকুর যখন মিড সাহেবের সহযোগিতা নিয়ে সামাজিক সংস্কার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা আন্দোলন করছেন, বোঝা যায়/জানা যায় তখন তিনি মিডের সহযোগিতার বিনিময়ে নমোদের খ্রীষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার ব্যাপারে যেকোনো মাত্রায় প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পারেন নি। অর্থাৎ গুরুচাঁদেরও সাধ্যে কুলোয় নি নমোদের হিন্দু থেকে খ্রিষ্টান করার। যশোর-খুলনার বিখ্যাত সংস্কারক/নেতা রাইচরণের জীবনেও এই অভিজ্ঞতা হয়।খ্রিষ্টান বানাতে পারে এই আশংকায় ওখানকার নমোরা তাদের উদ্যোগে তৈরি বিদ্যালয়ে শিক্ষা নিতে চান নি, বিদ্যালয়টি পুড়িয়ে দেয়। মতুয়া ধর্মান্দোলনে একটা অগ্রগতি আছে ঠিকই কিন্তু মতুয়ারা হিন্দু ধর্ম ব...