গোর্খাল্যান্ড : দুটি কথা
আমি যদি বলি বৃটিশ ভালো ছিল না, ফেসবুকে বন্ধুরা বলছেন, তুমি কি ভালো করতে পারতে? যদি বলি এই কারণে নেহেরু, অটল, কাশীরাম ভুল। --- তার জবাব মিলবে, তুমি কি করেছ? এবং এটাই নাকি আলোচনা!
বুঝতে চাইলাম, গোর্খাল্যান্ডে ক্ষতি কি? জবাব এলো--- বি জে পি-আর এস এস ঘিরে ফেলেছে, একদম, ফালতু কথা, আদিবাসীদের জন্য নয় কেন, অসম হয়ে ওই লাভ হয়েছে ইত্যাদি।--- পোস্ট দেখলেই মন্তব্য করতে হবে এমন কোন শর্ত আছে কি? না এটাই আদর্শ আলোচনা যা বোঝার ক্ষমতা আমার নেই।
এক সময় দেশে প্রেসিডেন্সি ছিল ৪/৫ টি। এখন কতগুলি রাজ্য? পরে ঝাড়খন্ড, uttorakhond, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা হয়েছে। তেলেঙ্গানা রাজ্যের জন্য একদিনে ৩০০ জনের বেশি মানুষ পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন। সে রাজ্য হয়েছে।কি ক্ষতি হয়েছে? বেঙ্গল ভেঙে অসম হয়েছে। অসম থেকে আবার ৫/৬ রাজ্য হয়েছে। যারা রাজ্য চেয়েছেন তারা তা পেয়ে খুশি। এটাই ভালো, এটাই গণতন্ত্র।
অনেক রাজ্যে মহকুমাগুলি জেলা হয়েছে। জেলাগুলো ক্রমাগত ভাঙছে। লোকের সুবিধা হচ্ছে। সমস্যা তো কিছু নেই।
দক্ষিণবঙ্গের লোকজন উত্তরবঙ্গে বেড়াতে যান। ৩ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেন। অথচ উত্তরবঙ্গের লোকের দৈনন্দিন কাজ কলকাতায়। কলকাতা বা আশপাশের লোক কোনোদিন উত্তরবঙ্গের মানুষের সমস্যা নিয়ে ভেবেছেন? উত্তরবঙ্গ আলাদা রাজ্য হলে যদি সেখানকার লোক উপকৃত হন, অসুবিধা কি? সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ আলাদা রাজ্য চাইলে হতেই পারে। এটা তাদের ইচ্ছার বিষয়। সেটাই কি গণতন্ত্র নয়!
গোর্খাদের সমস্যা আরো বেশি। তাছাড়া তারা সম্পূর্ণ আলাদা জাতিসত্তা। প্রায় ১০০ বছর বা তারও বেশি সময় কাল ধরে তারা এই দাবি করে আসছে। বিপুল জনমত আলাদা রাজ্যের পক্ষে। পাহাড়ের তিনটি মহকুমায় তাদেরই বাস। কেন তাদের ইচ্ছার মর্যাদা দেওয়া হবে না!
স্বাধীনতা তো স্বশাসন। সেটা দেওয়া উচিত। আদিবাসীদের, তফসিলি জাতির লোকেরও তা থাকা দরকার। কিন্তু সে অধিকার সব ক্ষেত্রে একই রকমভাবে দেওয়া বা পাওয়া সম্ভব হয় না। ভৌগোলিক কারণে সব সময় তা করা যায় না। সে জন্য সংরক্ষণ একটা ব্যবস্থা। অপব্যবহার বা কার্যকরী না করা বা না হওয়া -- সেটা আলাদা কথা, আলাদা আলোচনা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন