পোস্টগুলি

বি জে পি র ভবিষ্যৎ

উত্তর প্রদেশে দুটো গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা নির্বাচনেই বি জে পি হেরে গেল। আমি নিশ্চিত --- বি জে পি -র এই একই হাল হবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। তবে একটিমাত্র শর্ত খুব গুরুত্বপূর্ন। তাহলো, উত্তর ভারতে দলিত পার্টিটির সাথে ও বি সি দের ২/৩ টি পার্টির সাথে নির্বাচনে বোঝাপড়া তৈরি হওয়া/করা। এটা নাহলে বি জে পি পরাস্ত হবে না, আমি একথা বলছি না, এটা হলে তা নিশ্চিত হয়। অনেকের হয়তো মনে আছে, মনে না থাকলে হিসাব করে দেখুন --- বি জে পি-র উত্থান বি এস পি-র কাঁধে ভর করে। কাঁশিরাম বলতেন বি জে পি-কে মই হিসাবে ব্যবহার করার কথা। আসলে তিনি এটা বলতেন আম্বেদকরবাদীদের কাছে তার অনৈতিক (আম্বেদকরের নীতি বিরোধী) কাজের সাফাই দেবার জন্য এবং একই সাথে কাঁশিরাম প্রচার করেন যে, কংগ্রেস এমনকি বি জে পি-র থেকেও বেশি খারাপ, বেশি মনুবাদী দল। যাহোক, দেশবাসী জানেন যে, কার্যত কাঁশিরাম বি জে পি কে লিফট দেন, বি এস পি কে মই হিসাবে ব্যবহার করে বি জে পি কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করে। ৮৫-১৫ ভাগের কথাটা আম্বেদকরবাদী আন্দোলনকারীদের কাছে ওম বলে মন্ত্র শুরু করার মত, বি এস পি র কাছেও তাই। কিন্তু তারা উত্তর ভারতে ও বি সিদের পার্টিগুলির সাথে কোনোদি...

অন্ধ বিবেক!

বিবেকানন্দ বলেছেন--- " আমাদের মহান স্মৃতিকার মনু আর্যের সংজ্ঞা দিতে গিয়া বলিয়াছেন, প্রার্থনার ফলে যাহার জন্ম, সেই আর্য। প্রার্থনা ব্যতীত যে শিশুর জন্ম হয়, মনুর মতে সে অবৈধ সন্তান।.... প্রার্থনা ব্যতীত যদি আপনাদের সন্তান হইয়া থাকে, তবে তাহারা মানব জাতির অভিশাপ হইবে।..... আমাদের শাস্ত্র শিক্ষা দেয়, সন্তান ভালো বা মন্দ হইবে, তাহা স্থিরীকৃত হয়, গর্ভবাসকালীন প্রভাবের দ্বারা। লক্ষ লক্ষ বিদ্যালয়ে যান, লক্ষ লক্ষ পুস্তক পড়ুন, পৃথিবীর সব পন্ডিতের সঙ্গ করুন--- এগুলির প্রভাব অপেক্ষা জন্মকালীন শুভসংস্কারের প্রভাব বেশি।শুভ বা অশুভ উদ্দেশ্য লইয়াই আপনার জন্ম। শিশু জন্মগ্রহণ করে -- হয় দেবতারূপে, নয় দানবরূপে--- শাস্ত্র এই কথাই ঘোষণা করে। শিক্ষা আর সব কিছু পরে আসে, ঐগুলি অতি তুচ্ছ। যে ভাবে লইয়া আপনার জন্ম হইয়াছে, তাহাই আপনার ভাব ( বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৭ ও ৩৩৮)। ( এই অমৃৎবানী সমূহের পুনউচ্চারণ হবে তার এইসব ভাষণের ১২৫ তম বৎসর স্মরণে, যার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সরকারি তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা দিচ্ছেন)

বিধবার স্বর্গ

মহান স্বামী বিবেকানন্দর আশচর্য্য আবিষ্কার---- "বালবিধবাদের শোচনীয় অবস্থার যে চিত্র আঁকা হয়ে থাকে, তার সত্যতা অস্বীকার করে তিনি (স্বামীজী) বলেন যে, ভারতে সাধারণভাবে বিধবাদের বিস্তর প্রতিপত্তি, কারণ সেদেশে সম্পত্তির বড় অংশ বিধবাদের করায়ত্ত। বস্তুত বিধবারা এমন একটা স্থান অধিকার করে আছে যে, মেয়েরা এবং হয়তো পুরুষেরাও পরজন্মে বিধবা হবার জন্য সম্ভবত প্রার্থনাও করে থাকেন ( স্বামী বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা,৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩১৪)।

হিন্দুধর্ম ও দলিত

বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্যগণকে একটি চিঠিতে নিচের এই কথাগুলি লিখেছেন। কথাগুলো ঐতিহাসিকভাবে ঠিক এবং বিবেকানন্দর মতে  হিন্দু ধর্মীয় নির্দেশের দিক দিয়েও ঠিক। আমি আপনার কাছে বিশেষ করে দলিত বর্গের বন্ধুদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে এই কথাগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের অনুরোধ জানাচ্ছি। উদ্ধৃতিটি হল "মালাবারে একজন চন্ডালকে একজন উচ্চবর্ণের লোকের সঙ্গে এক রাস্তায় চলিতে দেওয়া হয় না, কিন্তু সে মুসলমান বা খ্রিস্টান হইলে তাহাকে অবাধে সর্বত্র যাইতে দেওয়া হয়, আর এই নিয়ম একজন হিন্দু রাজার রাজ্যে কত শতাব্দী ধরিয়া রহিয়াছে! ইহা একটু অদ্ভুত রকমের বোধ হইতে পারে, কিন্তু অতিশয় প্রতিকূল অবস্থার ভিতরও অপরাপর ধর্মের প্রতি হিন্দুধর্মের সহানুভূতির ভাবও ইহাতে প্রকাশিত হইতেছে" (বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, বেলুড়মঠ প্রকাশন, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৫)। ( এই মুসলমান ও খ্রিস্টানরা অধিকাংশ চন্ডাল থেকে ধর্মান্তরিত)

ত্রিপুরা-কলকাতায় মূর্তি ভাঙা প্রসঙ্গে

ভাঙা হলো লেনিন, শ্যামাপ্রসাদ, আম্বেদকর, পেরিয়ার, গান্ধী আর হনুমানের মূর্তি। এটা এমন একটা দেশ -- যেখানে গান্ধী, আম্বেদকর, লেনিনের মূর্তি গড়েন মানুষ; আবার সেই দেশের মানুষ শ্যামাপ্রসাদ ও হনুমানের মূর্তিও গড়েন। তাই ভাঙাভাঙিও আর অস্বাভাবিক কি! মানুষ মূর্তি গড়ে কেন? আর ভাঙেনও বা কেন?--- মনে হয় প্রচারের জন্য। মতাদর্শ প্রচারের কথা মাথায় রেখে ও শ্রদ্ধা-কৃতজ্ঞতা জানাবার জন্য। মূর্তি মানুষের মনে আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসা সৃষ্টি করবে, মানুষ  তাদের মতাদর্শ জানবেন এবং উদ্বুদ্ধ হবেন -- এসব ভেবেই হয়তো মূর্তি প্রতিষ্ঠা। আর ভাঙার প্রশ্ন তাহলে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। মতাদর্শ প্রচারের সংঘাত; জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সংকোচনের সংঘাতের পরিণতিতে এই ভাঙার সিদ্ধান্ত হতে পারে। আর হতে পারে পাগল ও মাতালের ঝোঁক -- তাদের চিত্তবিনোদন। গণতন্ত্রে যদি প্রত্যেকের বক্তব্য, মতাদর্শ প্রচারের অধিকার থাকে তাহলে গান্ধীর মূর্তি ও মহাত্মাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকারী আম্বেদকরের মূর্তি পাশাপাশি খাড়া থাকতে পারে। ভগবানে অবিশ্বাসী পেরিয়ারের পাশে হনুমানের মূর্তি থাকতে পারে। পুঁজিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক দেশের রাস্তার মোড়ে সমাজতন্ত্র ও সমানাধিকারের...

দলিতদের করণীয় কাজ

দিলীপ গাইন একটা পোস্ট করে বলেছেন ---- বড় দলে গিয়ে কোনো লাভ নেই, হয়নি। ভাবতে হবে ইত্যাদি---- আমি লিখেছি --- ভারতীয় পরিস্থিতিতে দলিত এবং মুসলমানদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন পার্টি প্রয়োজন, সেটা দুই সমাজের ঐক্যবদ্ধ পার্টিও হতে পারে। প্রয়োজন যৌথ এবং যোগ্য নেতৃত্ব ও পরিষ্কার ঘোষিত কর্মসূচি। --- এটা আমার মূল কথা। কিন্তু আজকের দিনে রাজনীতির গতি সরল পথ ধরে এগোয় না, তাই সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য নানা ধরণের পারমুটেশন-কম্বিনেশন করার প্রয়োজন হলে তা করতে হবে। তার জন্য নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সাহসী হতে হবে। দলিত- মুসলিমদের সমস্যা সমাধানের জন্য যা যা প্রয়োজন সে সবের জন্য সবার আগে প্রয়োজন দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও পরিবেশ। সে জন্য আম্বেদকর গণতন্ত্রের পক্ষে এত বেশি সরব ছিলেন। আর এই গণতন্ত্রের শিক্ষা ও অনুশীলনের সূতিকাগার হলো নিজ নিজ পার্টি। পার্টির নাম যাই হোক, এই শর্ত পূরণ করতে না পারলে সেই পার্টি আম্বেদকরবাদী বলে দাবি করার অনধিকারী। সেই জন্য দলিতদের নিজস্ব দাবির সাথে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোন দিকে চলছে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোন চ্যালেঞ্জের মুখে কিনা, সেটা গুরুত্ব দিয়ে ভ...

যোগেন্দ্রনাথের কুৎসার জবাবে

TDN Bangla আমার একটা সাক্ষাৎকার প্রচার করে। তাতে তপন ঘোষ, কিছু বামুন ও নমো আমাকে এবং যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলকে নিয়ে কুৎসা করছে, তার জবাবে এই কথাগুলি--- যোগেন বাবু এই বাংলা থেকে আম্বেদকরকে গণ পরিষদে পাঠাবার কাজে নেতৃত্ব দেন। তিনি বাংলার তফসিলিদের জন্য  সংরক্ষণ নীতি  কার্যকরী করার জনক এবং তিনিই বাংলার তফসিলি ছাত্র-ছাত্রীদের stipend চালু করেন। ১৯৪৩ সালে মুসলিম মন্ত্রিসভার সহযোগিতায় তিনি এই কাজে সফল হন। এর প্রতিটি কাজে উচ্চ বর্ণ হিন্দুরা বাধা দেন। ব্যর্থ হয়ে তাঁরা যোগেনবাবুর কুৎসা শুরু করে, যা আজও চলছে। দলিতরা শুধু এইটুকু কাজের জন্য তাকে সুদীর্ঘকাল মনে রাখবেন। দলিতদের মধ্যে আবোলতাবোল বলা মানুষের সংখ্যা কম নয়, তাদের কথাগুলি হলো আস্তাকুঁড়ের জঞ্জাল। দেশ ভাগ এবং বাংলা ভাগের জন্য দায়ী উচ্চ বর্ণ হিন্দু সমাজের নেতারা। যোগেন বাবু দেশ ভাগ এবং বাংলাভাগের বিরোধিতা করেন। মূলত বাংলাভাগের জন্য বাঙালিরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, উদ্বাস্তু হয়েছেন। তাই দেশ ত্যাগের কারণ উচ্চ বর্ণ হিন্দু নেতৃত্ব। কংগ্রেসি নেতারা এবং শ্যামাপ্রসাদ। পূর্ববঙ্গের ১/২ কোটি হিন্দু যেমন পালিয়ে ভারতে এসেছেন, বরিশালের বাড়ি ছেড়ে ...