পোস্টগুলি

দ্বিচারিতার শিকার উদ্বাস্তুরা

৩০ জুলাই, ২০১৮ তারিখে অসমে এন আর সি তালিকা প্রকাশিত হবার দিন থেকে মনটা ভাল নেই। হাতে একটা জরুরি কাজ রয়েছে, কিন্তু তাতে হাত লাগাতেই ইচ্ছা করে নি। সাধ্যমত কিছু সভা-সমিতি করে বেড়াচ্ছি। ঠিক করেছিলাম-- আজ সকাল থেকে শুরু করে দুদিনের মধ্যে কাজটা শেষ করব। গুছিয়ে বসেছি, বসে ভাবলাম খবরের কাগজগুলো একটু দেখে নি। তখনই চোখে পড়লো আনন্দবাজারে জয়ন্ত ঘোষালের লেখা, পাশে এন আর সি নিয়ে কয়েকটি চিঠি। আমার ধারণা হয়তো ঠিক নয় বা কিছুটা ঠিক হতেও পারে -- এই লেখাগুলি পড়ে এবং আরও কিছু লেখা পড়ে, ফেসবুকে নানা মন্তব্য পড়ে, আমার লেখকদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন বলে মনে হয়। ভাবছি যে এরা কী চান, কী উদ্দেশ্যে এইসব লেখা? লেখাগুলি কি সত্যি ভারতকে সিরিয়া বানানোর জন্যে? গুছিয়ে লেখার মত মানসিকতা নেই, আমি কিছু পুরোনো কথা এলোমেলোভাবে তুলে দেব। দেখুন তার মধ্য দিয়ে কিছু আন্দাজ করা যায় কি না? জয়ন্ত বাবুর মত একজন প্রবীণ সাংবাদিক বাঙালি উদ্বাস্তু মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনায় আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মান-- এসব দেশে বিনা পাসপোর্টে ঢোকা ও থাকা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তুলে এদেশে বসবাসকরি বাঙালি উদ্বাস্তুদের সাথে তুলনা টেনেছেন।-- আমি ভাবছি, এই তুলনা...

অসমে এন আর সি নিয়ে সমস্যা

বন্ধুদের বিচার - বিবেচনার জন্য অসমে এন আর সি অর্থাৎ নাগরিকপঞ্জি থেকে ৪০০৭৭০৭ জন অসমবাসীর নাম বাদ গেছে। যার জন্য তারা বে-নাগরিক বলে ঘোষিত হবার মুখোমুখি। বিভিন্ন সূত্রে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তাতে পরিষ্কার যে, তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের প্রায় সবাই ভারতের বৈধ নাগরিক। তাই কর্তৃপক্ষের এই কাজ অন্যায়, দায়িত্বজ্ঞানহীনতার  পরিচয়, মানুষের প্রতি চরম অবিচার। আমরা এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা করি ও তালিকায় সমস্ত ভারতীয় মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই। নাগরিকপঞ্জি তৈরির কাজ হঠাৎ কোন গজিয়ে ওঠা বিষয় নয় বা অসম সরকারের খেয়াল খুশির ব্যাপার নয়। তবে একথা ঠিক যে, এই কাজ সর্বপ্রথম অসম রাজ্যেই শুরু হয়েছে। ১৯৮৫ সালে অসম চুক্তি যখন স্বাক্ষরিত হয়, তখন অসমে নাগরিকপঞ্জি তৈরি করার কথা হয় বলে জানা যায়। সে যাহোক, এখন নাগরিকপঞ্জি তৈরি হচ্ছে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০০৩- এর ১৪এ ধারার নির্দেশ মেনে। অটলবিহারীর প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই আইন তৈরি হয়। আইনটি কার্যকরী করার জন্য রুলসও তৈরি হয়, যে রুলস-এ সামান্য রদবদল ও সংযোজন হয় ২০০৯ সালে। ওই আইনে বলা আছে যে, সারা দেশে নাগরিক...

বি জে পি র ভবিষ্যৎ

উত্তর প্রদেশে দুটো গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা নির্বাচনেই বি জে পি হেরে গেল। আমি নিশ্চিত --- বি জে পি -র এই একই হাল হবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। তবে একটিমাত্র শর্ত খুব গুরুত্বপূর্ন। তাহলো, উত্তর ভারতে দলিত পার্টিটির সাথে ও বি সি দের ২/৩ টি পার্টির সাথে নির্বাচনে বোঝাপড়া তৈরি হওয়া/করা। এটা নাহলে বি জে পি পরাস্ত হবে না, আমি একথা বলছি না, এটা হলে তা নিশ্চিত হয়। অনেকের হয়তো মনে আছে, মনে না থাকলে হিসাব করে দেখুন --- বি জে পি-র উত্থান বি এস পি-র কাঁধে ভর করে। কাঁশিরাম বলতেন বি জে পি-কে মই হিসাবে ব্যবহার করার কথা। আসলে তিনি এটা বলতেন আম্বেদকরবাদীদের কাছে তার অনৈতিক (আম্বেদকরের নীতি বিরোধী) কাজের সাফাই দেবার জন্য এবং একই সাথে কাঁশিরাম প্রচার করেন যে, কংগ্রেস এমনকি বি জে পি-র থেকেও বেশি খারাপ, বেশি মনুবাদী দল। যাহোক, দেশবাসী জানেন যে, কার্যত কাঁশিরাম বি জে পি কে লিফট দেন, বি এস পি কে মই হিসাবে ব্যবহার করে বি জে পি কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করে। ৮৫-১৫ ভাগের কথাটা আম্বেদকরবাদী আন্দোলনকারীদের কাছে ওম বলে মন্ত্র শুরু করার মত, বি এস পি র কাছেও তাই। কিন্তু তারা উত্তর ভারতে ও বি সিদের পার্টিগুলির সাথে কোনোদি...

অন্ধ বিবেক!

বিবেকানন্দ বলেছেন--- " আমাদের মহান স্মৃতিকার মনু আর্যের সংজ্ঞা দিতে গিয়া বলিয়াছেন, প্রার্থনার ফলে যাহার জন্ম, সেই আর্য। প্রার্থনা ব্যতীত যে শিশুর জন্ম হয়, মনুর মতে সে অবৈধ সন্তান।.... প্রার্থনা ব্যতীত যদি আপনাদের সন্তান হইয়া থাকে, তবে তাহারা মানব জাতির অভিশাপ হইবে।..... আমাদের শাস্ত্র শিক্ষা দেয়, সন্তান ভালো বা মন্দ হইবে, তাহা স্থিরীকৃত হয়, গর্ভবাসকালীন প্রভাবের দ্বারা। লক্ষ লক্ষ বিদ্যালয়ে যান, লক্ষ লক্ষ পুস্তক পড়ুন, পৃথিবীর সব পন্ডিতের সঙ্গ করুন--- এগুলির প্রভাব অপেক্ষা জন্মকালীন শুভসংস্কারের প্রভাব বেশি।শুভ বা অশুভ উদ্দেশ্য লইয়াই আপনার জন্ম। শিশু জন্মগ্রহণ করে -- হয় দেবতারূপে, নয় দানবরূপে--- শাস্ত্র এই কথাই ঘোষণা করে। শিক্ষা আর সব কিছু পরে আসে, ঐগুলি অতি তুচ্ছ। যে ভাবে লইয়া আপনার জন্ম হইয়াছে, তাহাই আপনার ভাব ( বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৭ ও ৩৩৮)। ( এই অমৃৎবানী সমূহের পুনউচ্চারণ হবে তার এইসব ভাষণের ১২৫ তম বৎসর স্মরণে, যার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সরকারি তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা দিচ্ছেন)

বিধবার স্বর্গ

মহান স্বামী বিবেকানন্দর আশচর্য্য আবিষ্কার---- "বালবিধবাদের শোচনীয় অবস্থার যে চিত্র আঁকা হয়ে থাকে, তার সত্যতা অস্বীকার করে তিনি (স্বামীজী) বলেন যে, ভারতে সাধারণভাবে বিধবাদের বিস্তর প্রতিপত্তি, কারণ সেদেশে সম্পত্তির বড় অংশ বিধবাদের করায়ত্ত। বস্তুত বিধবারা এমন একটা স্থান অধিকার করে আছে যে, মেয়েরা এবং হয়তো পুরুষেরাও পরজন্মে বিধবা হবার জন্য সম্ভবত প্রার্থনাও করে থাকেন ( স্বামী বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা,৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩১৪)।

হিন্দুধর্ম ও দলিত

বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্যগণকে একটি চিঠিতে নিচের এই কথাগুলি লিখেছেন। কথাগুলো ঐতিহাসিকভাবে ঠিক এবং বিবেকানন্দর মতে  হিন্দু ধর্মীয় নির্দেশের দিক দিয়েও ঠিক। আমি আপনার কাছে বিশেষ করে দলিত বর্গের বন্ধুদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে এই কথাগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের অনুরোধ জানাচ্ছি। উদ্ধৃতিটি হল "মালাবারে একজন চন্ডালকে একজন উচ্চবর্ণের লোকের সঙ্গে এক রাস্তায় চলিতে দেওয়া হয় না, কিন্তু সে মুসলমান বা খ্রিস্টান হইলে তাহাকে অবাধে সর্বত্র যাইতে দেওয়া হয়, আর এই নিয়ম একজন হিন্দু রাজার রাজ্যে কত শতাব্দী ধরিয়া রহিয়াছে! ইহা একটু অদ্ভুত রকমের বোধ হইতে পারে, কিন্তু অতিশয় প্রতিকূল অবস্থার ভিতরও অপরাপর ধর্মের প্রতি হিন্দুধর্মের সহানুভূতির ভাবও ইহাতে প্রকাশিত হইতেছে" (বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, বেলুড়মঠ প্রকাশন, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৫)। ( এই মুসলমান ও খ্রিস্টানরা অধিকাংশ চন্ডাল থেকে ধর্মান্তরিত)

ত্রিপুরা-কলকাতায় মূর্তি ভাঙা প্রসঙ্গে

ভাঙা হলো লেনিন, শ্যামাপ্রসাদ, আম্বেদকর, পেরিয়ার, গান্ধী আর হনুমানের মূর্তি। এটা এমন একটা দেশ -- যেখানে গান্ধী, আম্বেদকর, লেনিনের মূর্তি গড়েন মানুষ; আবার সেই দেশের মানুষ শ্যামাপ্রসাদ ও হনুমানের মূর্তিও গড়েন। তাই ভাঙাভাঙিও আর অস্বাভাবিক কি! মানুষ মূর্তি গড়ে কেন? আর ভাঙেনও বা কেন?--- মনে হয় প্রচারের জন্য। মতাদর্শ প্রচারের কথা মাথায় রেখে ও শ্রদ্ধা-কৃতজ্ঞতা জানাবার জন্য। মূর্তি মানুষের মনে আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসা সৃষ্টি করবে, মানুষ  তাদের মতাদর্শ জানবেন এবং উদ্বুদ্ধ হবেন -- এসব ভেবেই হয়তো মূর্তি প্রতিষ্ঠা। আর ভাঙার প্রশ্ন তাহলে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। মতাদর্শ প্রচারের সংঘাত; জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সংকোচনের সংঘাতের পরিণতিতে এই ভাঙার সিদ্ধান্ত হতে পারে। আর হতে পারে পাগল ও মাতালের ঝোঁক -- তাদের চিত্তবিনোদন। গণতন্ত্রে যদি প্রত্যেকের বক্তব্য, মতাদর্শ প্রচারের অধিকার থাকে তাহলে গান্ধীর মূর্তি ও মহাত্মাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকারী আম্বেদকরের মূর্তি পাশাপাশি খাড়া থাকতে পারে। ভগবানে অবিশ্বাসী পেরিয়ারের পাশে হনুমানের মূর্তি থাকতে পারে। পুঁজিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক দেশের রাস্তার মোড়ে সমাজতন্ত্র ও সমানাধিকারের...