পক্ষপাতদুষ্ট ভারতীয় বিচার বিভাগ
(২০০০ সালের শুরুতে কলকাতার স্টুডেন্টস্ হলে দেওয়া বক্তৃতা)
বৈদিক যুগে এদেশে শ্রেণীবিভাগ ছিল বলে জানা যায়; কিন্তু বর্ণ বা জাতবিভাগ ছিল। না। বর্ণবিভাগ বৌদ্ধ যুগে শুরু হয়ে পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণ যুগে দৃঢ়মূল হয়। হিন্দুধর্মের নীচ বর্গ শুধুমাত্র রক্ত সম্পর্ক যুক্ত মানুষদের নিয়ে গঠিত হয়নি। দলিতদের দুর্দশার মূলে শ্ৰেণীস্বার্থ। শ্রেণী দ্বন্দ্ব-সংগ্রামে তাদের এক ঐতিহাসিক পরাজয়। যদিও পরবর্তীকালে রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা হয়; কিন্তু তা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছে।
ঋকবেদের বিভিন্ন শ্লোক থেকে জানা যায়, তখনকার দিনে রাজাদের কিছু স্তাবক থাকতো – যারা রাজার স্তুতি গাইতো এবং এভাবে রাজার গুণগান ও মহিমা কীর্তন করে রাজাকে সাধারণ মানুষের উর্ধে স্থাপন করার কাজে নিয়োজিত থাকতো। যেমন রাজা সুদাসের স্তুতিগায়ক বা স্তাবক ছিলেন বশিষ্ঠ এবং রাজা ভরতকুলের ছিলেন বিশ্বামিত্র। পরে এই বৃত্তি বংশানুক্রমিক (জন্মাধীন) পেশায় পরিণত হয়। এই স্তুতিগায়কেরাই পরবর্তীকালে পুরোহিতশ্রেণী বা আজকের ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়।
শুরুতে কিন্তু পুরোহিত দ্বারা দেবতার অর্চনা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে রাজা এবং দেবতার মাঝে পুরোহিতরা নিজেদের দাঁড় করায়। তারা প্রচার শুরু করে— তাদের হাত দিয়ে ছাড়া পূজোর বলি দেবতারা গ্রহণ করে না। ধীরে ধীরে এই পুরোহিতশ্রেণী রাজা এবং প্রজাকূলের মন নানা শাস্ত্রীয় অনুশাসনে বেঁধে ফেলতে শুরু করে।
তারা এভাবে (শাস্ত্রীয়) আইন; অনুশাসন তৈরি করার পর, তার প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দেয়। আইনের সৃষ্টি ও তার প্রয়োগ মিলিয়ে প্রাচীন ভারতে বিচার বিভাগ কাজ শুরু করে। প্রাচীন ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় ঘোষিত নীতিতেই 'আইনের চোখে সবাই সমান' ছিল না। শতপথ ব্রাহ্মণ অনুযায়ী পুরোহিতশ্রেণী নিম্নলিখিত চারটি বিশেষ অধিকার ও সুযোগ ভোগ করতো :
১। অর্ষা—প্রত্যেকে তাকে মর্যাদা দেবে। ২। দান—প্রত্যেকে তাঁকে উপঢৌকন দেবে।
৩। অজেয়তা—তাঁকে কেউ অধীনস্ত করতে ও অত্যাচার করতে পারবে না।
৪। অবধ্যতা—কেউ তাকে হত্যা করতে পারবে না।
বৈদিকযুগের শেষে পুরোহিততন্ত্রের এই বিভেদমূলক নীতির বিরুদ্ধে গৌতমবুদ্ধের প্রবর্তিত সাম্যনীতির সংঘাত শুরু হয়— যা বস্তুতপক্ষে ব্রাহ্মণ ও অব্রাহ্মণের সরাসরি সংঘাত। এর বাইরে তখনকার ঐ সমাজে উল্লেখযোগ্য কোন সংঘাত না থাকায় বলতে বাধা নেই, এটাই হলো প্রাচীন ভারতের কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব।
স্বাভাবিকভাবেই শূদ্র মহাপদ্ম নন্দের শাসন ব্রাহ্মণদের পছন্দ হয়নি। তাই, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নামক আরেকজন শূদ্রকে ব্যবহার করে নন্দবংশের পতন ঘটান কৌটিল্য নামক একজন ব্রাহ্মণ এবং তিনি চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ব্রাহ্মণদের হৃত অধিকার পুনরুদ্ধার করেন। কিন্তু মৌর্য সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করায় সব হিসাব আবার পাল্টে যায়। অশোক ব্রাহ্মণদের বিশেষ অধিকার খারিজ করে দিয়ে তাঁর কর্মচারিদের বিচারকালে দন্ড সমতা ও ব্যবহার সমতা প্রয়োগ করার নির্দেশ দেন। ব্রাহ্মণরা আবার অবধ্য বা মৃত্যুদন্ডের অতীত—এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়, অশোকের আমলে ব্রাহ্মণদের উপর কোন অত্যাচার বা কোনরূপ অবদমনের নীতি প্রয়োগ হয়নি। শুধুমাত্র সমতার নীতি গৃহীত হয়েছে। কিন্তু এই সমতার নীতি ব্রাহ্মণদের কাছে কোনদিনই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। সমতার নীতি প্রয়োগ তাদের কাছে অবদমন বলে মনে হয়েছে।
শূদ্র সম্রাট অশোকের প্রপৌত্র বৃহদ্রথ তাঁর প্রধান সেনাপতি করেছিলেন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের পৃষ্যমিত্রকে। রাজসৈন্যের কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করার সময় বিশ্বাসঘাতক পুষ্যমিত্র, বৃহদ্রথকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করেন।
এই হত্যার লক্ষ্য (মোটিভ) যে শূদ্র শাসন বা দন্ড সমতা তথা সামাজিক সাম্যের নীতিকে উৎখাত করা, তা পৃয্যমিত্র ও পরবর্তী ব্রাহ্মণ্য যুগ বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়।
ব্রাহ্মণ প্রতিক্রিয়ার এই যুগে 'আইনের চোখে সবাই সমান' এই নীতি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। ব্রাহ্মণদের আবার বসানো হয় দেবতার আসনে ; আর কেড়ে নেওয়া হয় শূদ্রদের যাবতীয় অধিকার। অতীতের সমস্ত শূদ্রবিদ্বেষ ছাড়িয়ে যায় এবারের শূদ্রবিদ্বেষ। সংকলিত হয় মনুস্মৃতি (মনুসংহিতা)।
আবার বৌদ্ধ কুশান বংশের শাসনের পরেই ব্রাহ্মণ্যবাদী গুপ্ত সাম্রাজ্য। বৌদ্ধ পাল বংশের পরেই মনুবাদী সেন বংশের শাসন। পট পরিবর্তন চলতেই থাকে। আর এর প্রতিবারের সাথে পরিবর্তন হয় বিচার ব্যবস্থার। এই ঐতিহাসিক পরম্পরা জড়িয়ে আছে বর্ণবিভক্ত ভারতীয় জনগণের চিন্তা-চেতনা ও কর্মে এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এতটুকু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিষয়টি মামুলি নয়। এই মূল্যায়নই ভারতীয় রাষ্ট্র ও সমাজের কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বিন্দুগুলিকে নির্দিষ্ট করবে এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য আক্রমণের দিকনির্দেশ করবে।
অন্ধ্রপ্রদেশে দু'জন কিশোরের মৃত্যুদন্ডের আদেশকে ঘিরে একটা বড় আন্দোলন চলছে। ঘটনা হলো— ঐ দু'জন একটা বাসে কেরোসিন আর দেশলাই নিয়ে উঠে ডাকাতির চেষ্টা করে। এরা দু'জন এমন পরিবারে জন্মেছিলো যে, জীবনে কোনদিন একবেলা ভরপেট খাবার জোটেনি। টিভি দেখে তাঁরা অনেক কিছু শিখে ফেলে এবং সেমত বাসে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী — সেটাই তাঁদের জীবনের প্রথম অপরাধ। একজন বাসের মধ্যে কেরোসিন ছিটাতে থাকে, অন্যজন একটা ছুরি হাতে যাত্রীদের টাকা পয়সা দিতে বলে। এরই মধ্যে বাসে আগুন লেগে যায়। ২৩ জন যাত্রী পুড়ে মারা যান। অপরাধীরাও আগুনে পুড়ে আহত হয়। বাসে দেশলাই কাঠি কে জ্বালে, তা জানা যায়নি এবং অপরাধীরা তাঁদের দোষ স্বীকার করে অর্থাৎ ডাকাতির চেষ্টার কথা স্বীকার করে।
গুনটুরের সেশন জজ অপরাধী চলাপতি রাও এবং বিজয়বর্ধন রাওকে ফাঁসির হুকুম দিয়ে বলেছে—“এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় না যে, (তাঁরা যে পরিবার থেকে এসেছে) তাঁরা দেশলাই কাঠি জ্বেলেছিল এবং তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের খুন করা।” পরবর্তীকালে হাইকোর্ট এবং সুপ্রীমকোর্ট ঐ রায় বহাল রাখে। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই বিচারকার্য শেষ করা হয়। ঐ ফাঁসীর আদেশ এখনও কার্যকরী করা যায়নি। অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষের প্রবল আন্দোলনের চাপে দু'বার ফাঁসির দিন গেছে। বলাই বাহুল্য, ঐ দুই আসামী দলিতবর্গের মানুষ।
একই সাথে স্মরণ করা যায়, তামিলনাড়ুর কিলভেনমানি এলাকার জমিদারদের বর্বরতার কথা। তাঁরা পরিকল্পিতভাবে দলিতদের গ্রামে আগুন লাগিয়ে ৪০ জন দলিত মানুষকে পুড়িয়ে মারে। তাঁদের উপর অকথ্য অত্যাচার করে ও মহিলাদের গণহারে ধর্ষণ করে। প্রায় ১৫ বছর পর সাম্প্রতিককালে ঐ মামলায় হাইকোর্ট রায় দিয়ে বলেছে— “একথা বিশ্বাস করা কঠিন যে, উচ্চ সম্ভ্রান্ত পরিবারের এমন সুন্দর মানুষগুলি এত জঘন্য অপরাধ করতে পারেন!” তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রাজস্থানের বানোয়ারী দেবীর ধর্ষণকারীকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জজসাহেব তাঁর রায়ে লেখেন—“আমি অবাক হয়ে ভাবি, একজন উচ্চবর্ণীয় ভদ্রলোক, নীচু জাতের একজন মধ্যবয়সী মহিলাকে ধর্ষণ করার মত এত হীন কাজ কি করতে পারে?”
বছর কুড়ি আগে নীলম সঞ্জীব রেড্ডি নানদিয়াল লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য হাজার হাজার মানুষকে ভয় দেখিয়ে জোর করে ঘরে বন্দী করে রাখেন। কারণ তাঁর আশংকা ছিল দলিতরা তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন। এরপর তিনি লোকসভার স্পীকার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একজন উচ্চ বংশোদ্ভূত ব্যক্তি এমন জঘন্য কাজ কি করতে পারেন? – অভিযোগ উঠলেও নির্বাচন কমিশন বা মহামান্য আদালত, তাই, এ নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন অনুভব করেনি।
অন্ধ্রপ্রদেশের করমকেন্দু ও চন্দরু এলাকার জমিদাররা দলিতদের কঁচুকাটা করেছিল ; কিন্তু আদালত তাদের শাস্তি দেবার মত যথেষ্ট প্রমাণ হাতে পায়নি।
ইন্দিরা গান্ধী মামলার অপরাধী সতবন্ত সিং এবং কেহর সিংকে বা জেনারেল বৈদ্যর হত্যাকারি জিন্দাকে ফাঁসীতে ঝোলানো হয় দু'তিন বছরের মধ্যে বিচারপর্ব সমাধা করে। এক্ষেত্রে অপরাধিরা দলিত বা দলিতবর্গের মানুষ ; কিন্তু এইচ কে. এল. ভগত ? — শত শত শিখ হত্যাকারি এই অপরাধি ঘটনার চোদ্দবছর বাদেও বহাল তবিয়তে আছেন। আর বহু মুসলমান খুন হয় যে মুম্বাই দাঙ্গায়, সেই দাঙ্গার প্রধান পুরোহিত বাল থ্যাকারে আজ দেশের অন্যতম প্রধান কর্তাব্যক্তি!
নামজাদা আইনজীবী পদ্মনাভ রেড্ডি একবার বলেন— “ফাঁসী রদ্ করতে যতগুলি মামলা লড়েছি, তারমধ্যে দু'টি ক্ষেত্রে আমি জিততে পারিনি। প্রথমটি ভুমাইয়া-কিস্টা গোল্ড মামলা এবং দ্বিতীয়টি চলাপতি রাও ও বিজয়বর্ধন রাও মামলা।” দুটি ক্ষেত্রেই আসামীরা দলিত।
ভুমাইয়া এবং কিস্টার ফাঁসীর আদেশ রদ করার দাবিতে দেশ জুড়ে, এমনকি সারা বিশ্বজুড়ে আন্দোলন হয়। আন্দোলনের চাপে ১৯৭৪ এবং ১৯৭৫ সালের গোড়ায় দু'বার ফাঁসীর নির্দেশ পিছিয়ে যায়। এই রাজনৈতিক খুনের মামলায় অভিযুক্তদের অতঃপর জরুরী অবস্থার অন্ধকারে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মামলার ইতিহাসে চমকপ্রদ ঘটনাটি হলো — কিসটা, ভুমাইয়া ও নাগভূষণ পট্টনায়েক একই কেসে ফাঁসির আসামী ছিলেন। ভূমাইয়া, কিসটা বা স্বাধীন কাশ্মীর আন্দোলনের প্রধান নেতা মকবুল বাটের ফাঁসীর আদেশ রদ করতে যখন রাষ্ট্রপতি গিরি অস্বীকার করেন; তখন নাগভূষণের ফাসী তিনি রদ করেন।
একজন ফরাসী সাংবাদিক এ নিয়ে একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ লেখেন। তাতে তিনি বলেন—— “ভূমাইয়া এবং কিসটার ফাঁসির আদেশ কার্যকরী করার ক্ষেত্রে আসামীদের শিক্ষা এবং সামাজিক পশ্চাৎপদতা কাজ করে ; অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ সামাজিক মর্যাদা থাকায় নাগভূষণ ছাড়া পেয়ে যান” (হয়তো ব্রাহ্মণ অবধ্য বলে)।
বেশী পিছিয়ে না গেলেও আরওয়ালের দলিতদের গণহারে হত্যার ঘটনা থেকে শুরু করলে দেখা যাবে, বিহারে এমন একটি দিনও কাটে না—যেদিন দলিতদের খুন, ধর্ষণ করা হয়না। অথচ তারজন্য কারুর কোন শাস্তি হয় না। দলিত হত্যার বিরুদ্ধে দালালচকে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের নেতৃত্বে দলিত মানুষেরা যখন পাল্টা আঘাত করেন, তখন আটজনের ফাঁসীর আদেশ জারি হয়।
অতি সম্প্রতি আমরা দেখলাম— বে-আইনীভাবে টাকা সংগ্রহ করে ঘুষ দেবার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন ব্রাহ্মণ প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও জামিন পেয়ে গেলেন ; আর ঘুষ নেওয়া আদিবাসী সুরজ মন্ডল, শিবু সোরেনের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেল। বেআইনীভাবে টাকা সংগ্রহ ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ যদি খারিজ হয়ে যায়, তাহলে মন্ডলদের ঘুষ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
একই মামলায় অভিযুক্ত ব্রাহ্মণ জগন্নাথ মিশ্র জামিন পেয়ে গেলেন—কিন্তু লালুপ্রসাদ যাদবের জামিনের আবেদন সমস্ত আদালত খারিজ করে দিল— এমনকি মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতবর্ষের শাসকপার্টি জনতা দলের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও।
তফসিলীদের সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের নীচে বেঁধে দেওয়া সংবিধান সম্মত নয়। বিচার বিভাগের বর্ণবাদী মানসিকতার প্রতিফলন এই নির্দেশ। সাম্প্রতিককালে একের পর এক সংরক্ষণের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে সুপ্রীমকোর্ট তার একপেশে মনোভাব আরও উন্মোচিত করে দিয়েছে।
তাই বলা যায়, প্রাচীন ভারতে ঘোষিতভাবেই যে ব্রাহ্মণরা ছিলেন আইনের উর্ধে, অঘোষিতভাবে হলেও আজও তারা আইনের উর্ধে। তফাৎ খুবই কম। এদেশে সবার জন্য একই আইন বলা হলেও, যাঁরা আইন প্রয়োগকারি, যাঁরা বিচারক নিয়োগ করেন এবং আইনের ব্যাখ্যা করে রায় দান করেন, তারাই যে আইনের উর্ধে !
১৮
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন