ভোটারতালিকা থেকে ১৩ লাখ বাদ

 আনন্দবাজার পত্রিকা

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬


বহু কাজ বাকি, ১৩ লক্ষ নাম ছেঁটেও বলছে কমিশন


নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েও খুশি নয় নির্বাচন কমিশন।


বুথ-ভিত্তিক তথ্য-পরিসংখ্যান দেখে কমিশনের মনে হয়েছে, ভোটার তালিকার ব্যাপারে আরও কাজ বাকি। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার দেবাশিস সেন জানান, বুথ-ভিত্তিক ভোটার সংযোজন ও বিয়োজনের হিসাব খতিয়ে দেখে কমিশনের পক্ষ থেকে তিনি নিজেই পুরুলিয়া সফরে যাচ্ছেন। তার পরেও তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অন্য জেলা সফরের প্রসঙ্গ আসবে। সেখানে তিনি নিজে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, “আমরা বিধানসভা কেন্দ্র-ভিত্তিক, এমনকী বুথ- ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করছি।” তার ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, কমিশন নিযুক্ত নোডাল অফিসারকে শহরাঞ্চলে পুরসভার অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযান চালাতে হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে। প্রয়োজনে ভোটের আগে নতুন করে সংশোধিত অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।


এবারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার একটি চমকপ্রদ তথ্য হল, দক্ষিণ দিনাজপুরে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের পরে চূড়ান্ত তালিকায় আগের তালিকা থেকে ৩৮ শতাংশ ভোটার কমে গিয়েছে। দেবাশিসবাবু জানান, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের পরে চূড়ান্ত তালিকায় এ বার রাজ্যে ভোটার দাঁড়াল চার কোটি ৮৯ লক্ষ। তিনি জানান, এ বার তালিকায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে মাত্র আট লক্ষ ৫১ জন, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ১.৭৭।


দেবাশিসবাবু জানান, রাজ্যের ভোটার তালিকার চলতি 'ক্লিন রোল' অভিযানে মোট ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তার মধ্যে কমিশন নিজেদের উদ্যোগে বাদ দিয়েছে ১০ লক্ষ ৭২ হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম। এর মধ্যে যেমন মৃত ভোটার আছেন, তেমনি আছেন স্থানান্তরিত ভোটার। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের অসাধারণ উদ্যোগের ফলেই রাজ্যের ভোটার তালিকা এতটা পরিষ্কার করা গেল।" গত দু'বছরের তুলনায় এ বার রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় চার গুণ বেশি নাম বাদ পড়েছে।


আংশিক হলেও দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনও রাজ্যে সচিত্র চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হল। তবে এ বারেও রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নয়, প্রথম পর্যায়ে ৪৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে সচিত্র ভোটার তালিকা প্রকাশ পেল। তার মধ্যে কলকাতার একটিও কেন্দ্র নেই। যে-তিনটি জেলার সব কেন্দ্রের সচিত্র ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে সেগুলি হল কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও নদিয়া। তিনটিই সীমান্তবর্তী জেলা। আংশিক ভাবে যে-সব জেলার সচিত্র ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে, সেগুলি হল হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর।


  রাজ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯ লাখ ৯৮ হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। তারপর থেকে ১৫ দিনে দ্বিতীয় দফায় পর্যবেক্ষক আসা ও ফিরে যাওয়ার ফলে এক ধাক্কায় আরও প্রায় তিন লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেল। তার পরেও কিন্তু আরও নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে মনোনয়নপত্র জমা দেবার দিন পর্যন্ত।


মুখ্য নির্বাচনী অফিসার জানান, কমিশন নিজেদের উদ্যোগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৩.৮৫ শতাংশ এবং নদিয়া জেলায় ৩.৮৩ শতাংশ নাম বাদ দিয়েছে। যে- সব জেলায় এই পদ্ধতিতে সব চেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে, সেগুলি হল: দার্জিলিং ১.২৩ শতাংশ, বর্ধমান ১.৩৯ শতাংশ, পুরুলিয়া ১.৪৮ শতাংশ। ভোটার তালিকা তৈরির কাজে গাফিলতির জন্য নদিয়া জেলা প্রশাসন পাঁচ শিক্ষক ও দুই সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে।


প্রায় ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ। বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী বীথিকা মণ্ডলের নাম উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত এবং হুগলির বলাগড় — দুই জায়গাতেই আছে।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী